Usage of Information Technology

Usage of Information Technology

image_804_232364

 

 

 

 

 

 

 

ফাঁকা পড়ে আছে তথ্যপ্রযুক্তির মাঠবাংলাদেশের যোগাযোগ প্রযুক্তির অবকাঠামো প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। বাংলা ভাষায় মোবাইল কনটেন্ট, সেবা বিক্রির প্রস্তুতিও তেমন নেই। ২০১৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে মোবাইলের মাধ্যমে পরিশোধের (পেমেন্ট) অঙ্কটা হবে এক ট্রিলিয়ন ডলার। কেবল আন্তর্জাতিক মোবাইল পেমেন্টে গেটওয়ে প্রস্তুত করতে পারলেই দেশেও মোবাইলনির্ভর ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের বাজার সম্প্রসারিত হবে, বড় হবে অ্যাপ্লিকেশনের বাজারও। কী নেই তা নিয়ে হা-হুতাশ না করে যতখানি অবকাঠামো আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দেশের ও বিদেশের এ বিশাল বাজার ধরার জন্য একযোগে কাজ করতে হবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবাইকে। কালের কণ্ঠের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ আহ্বান জানালেন এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশ্রাফ আবির। তাঁর বিশ্বাস, কেবল সব ধরনের সেবার মাধ্যমই নয়, মোবাইল হয়ে উঠবে সরকারের রাজস্ব আয়েরও সবচেয়ে বড় খাত। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠের বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমী গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে এশিয়ার সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি উৎসব কমিউনিক এশিয়ায় বাংলা ভাষায় উদ্ভাবিত বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন প্রদর্শন করেছিল বাংলাদেশের মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বা এমসিসি লিমিটেড। বিদেশের এ মেলায় মাতৃভাষায় তৈরি করা আবহাওয়া সতর্কবার্তা, ক্যালেন্ডার, স্টক অ্যাসিস্ট, কারেন্সি কনভার্টার, লেমন টোয়েন্টি ফোর, মুক্তিযুদ্ধ ও নিউজভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনগুলো গর্বের সঙ্গে দর্শনার্থীদের দেখিয়েছিলেন এমসিসির কর্ণধার আশ্রাফ আবির। মেলা প্রাঙ্গণেই তিনি কালের কণ্ঠকে দেশে ও বিদেশে মূল্য সংযোজিত মোবাইল কনটেন্টের বাজার সম্প্রসারণে তাঁর পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে তৈরি করা এসব অ্যাপ্লিকেশন এখন নকিয়া ফোনের ‘অভিস্টোর’ ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে এবং দেশের বাইরে।

বিদেশের মেলায় প্রদর্শন করেই যে তিনি থেমে নেই তা দেখা গেল ঢাকায় এমসিসির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে। সেখানে এক ঝাঁক তরুণ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বানাতে ব্যস্ত। নানা রকম অডিও-ভিডিও বা অ্যানিমেশন-ভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ ছাড়াও দেশের উপযোগী সরকারি ও বেসরকারি সেবাগুলো মোবাইল-ভিত্তিক করার জন্য নিবিষ্টমনে কাজ করছেন তাঁরা। নিজের অফিসে কর্মব্যস্ত আবির জানালেন, রিংটোন, ওয়ালপেপার, কথা বলা ছাড়াও যে মোবাইল ইন্টারনেটের একটি বিশাল বাজার রয়েছে এমসিসি সেই বাজার ধরার লক্ষ্যেই কাজ করছে।
‘যেখানে আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি আউটসোর্সিং কাজের ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে এমসিসি দেশেই একটি উন্মুক্ত ও সুস্থ তথ্যপ্রযুক্তির বাজার সৃষ্টির জন্য বাণিজ্যিকভাবে কাজ করছে। এতে যেমন অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে, তেমনি তরুণ প্রজন্মও আগ্রহী হচ্ছে পেশা হিসেবে মাল্টিমিডিয়া বা মোবাইল প্রযুক্তিকে বেছে নেওয়ার জন্য’_জানালেন আবির।
বাংলাদেশের যত অ্যাপ্লিকেশন আন্তর্জাতিক বাজারে দেখা যায় তার বেশির ভাগই এমসিসির তৈরি দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির সিইও জানালেন, “মোবাইল ফোনের বেশির ভাগই অ্যাপ্লিকেশন জাভা, সিম্বিয়ান প্লাটফর্মে তৈরি। বিশ্বের জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন স্টোর ‘নকিয়া স্টোর’-এ এমসিসির তৈরি অ্যাপ্লিকেশনগুলো এখন সেরা অবস্থান করে নিচ্ছে। আমাদের তৈরি জনপ্রিয় ১৫টি অ্যাপ্লিকেশন এ মাসেই অ্যানড্রয়েড ও আইওএস বাজারে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।”
দেশে সাড়ে আট কোটির বেশি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার অর্ধেক এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। যারা নিয়মিত মোবাইল ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। এর মানে হচ্ছে, এই মোবাইল ফোনগুলো শুধু কথা বলা ছাড়াও তথ্য পাওয়া বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিশাল কানেকটেড নেটওয়ার্ক দেশে তৈরি হচ্ছে, এ সম্ভাবনার হাত ধরে নানা ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। আবির বললেন, আপনি যদি কোনো একটি প্রডাক্ট নিয়ে দ্রুত মানুষের কাছে পেঁৗছাতে চান তাহলে মোবাইলের কথাই চিন্তা করতে হবে। কারণ টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি কিছু মানুষের কাছে পেঁৗছাতে পারবেন; কিন্তু এক ক্লিকে প্রায় সব মানুষের কাছে পেঁৗছানের ডিভাইস একটাই। আর তা হলো মোবাইল ফোন।
নানা ধরনের সেবার মাধ্যমে এখন প্রমাণিত, মোবাইল ফোন শুধু কথা বলার যন্ত্র নয়। বিশ্বব্যাপীও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব কিছুই মোবাইল ফোনে ঢোকানোর চেষ্টা চলেছে উল্লেখ করে আশ্রাফ আবির বলেন, এই ছোট্ট ডিভাইসটি দিয়ে তাবৎ কাজ করা যাচ্ছে। আর এটি ছাড়া আপনি বিচ্ছিন্ন (ডিসকানেকটেড)। মোবাইল ফোনে কথা বলা, ছবি তোলা, টিভি দেখা, রেডিও, গান শোনা, ছবি দেখা, জিপিএস ট্র্যাক করা, ম্যাপ দেখা, গেমস খেলা, টাকা পাঠানো, বিভিন্ন বিল প্রদান, পরীক্ষার ফল দেখা, ট্রেনের টিকিট কাটা, ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করাসহ মানুষের প্রায় সব চাহিদা পূরণ হচ্ছে। অনলাইনে সংবাদ পড়া, টিভি দেখা কিংবা ফেসবুক-টুইটারে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ_সব কিছুই সম্ভব হচ্ছে ছোট্ট এই ডিভাইসটিতে। এমন একটা সময় আসবে মোবাইল দখল করবে ডেস্কটপের জায়গা। ‘কৃষিভিত্তিক এ দেশের মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, স্বাস্থ্যসেবা নেবে তা ১০ বছর আগেও চিন্তার বাইরে ছিল। মোবাইল অপারেটররা মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সেবা চালু করে অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উদ্যোক্তারাও তাঁদের উৎপাদিত পণ্য ইন্টারনেটে বেচাকেনা করতে পারেন। সরকার চার হাজার ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সেখানে কৃষি ও কুটিরশিল্প পণ্য বেচাকেনা হতে পারে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা তাদের পণ্য তুলে ধরতে পারবে’_জানালেন আবির।
তবে দেশে যে মোবাইল ফোন অবকাঠামো আছে, কৌশলগত পরিকল্পনায় তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে আবির জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের যোগাযোগ প্রযুক্তির যে অবকাঠামো তা অনেকটা ফাঁকা অনুর্বর মাঠের মতোই পড়ে আছে। এই মাঠে আপনি ভালো বীজ, সার, পানি প্রয়োগ করলে ভালো ফসল তোলা যাবে। একটি প্রো-ডিজিটাল সরকার পাওয়া সত্ত্বেও আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারে বহুগুণ পিছিয়ে আছি।’
মোবাইলকেন্দ্রিক বাণিজ্যের প্রসার না ঘটার পেছনে কয়েকটি বাধার কথাও বলেন তিনি। আমাদের নিজস্ব ভাষায় মোবাইল সেবা, কনটেন্ট বানানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে সব মোবাইলে বাংলা কিপ্যাড করা হবে এ বছরের মধ্যেই। মোবাইলে বাংলা ভাষা পড়া এবং লেখা নির্ভুলভাবে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তাঁর মতে, ‘মোবাইল কনটেন্ট মার্কেটসহ অন্যান্য ব্যবসার বিস্তার না ঘটার ক্ষেত্রে আরেকটি ব্যর্থতা হলো এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মোবাইল পেমেন্টে গেটওয়ে প্রস্তুত করতে না পারা। পেমেন্টে গেটওয়ের অভাবে বেসরকারি কম্পানিগুলো কনটেন্ট মার্কেটে প্রবেশ করে অ্যাপ্লিকেশন কেনাবেচা করতে পারছে না। এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে আমাদের মোবাইল-নির্ভর ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের বাজার ক্রমেই সম্প্রসারিত হবে। এসব সেবার হাত ধরে ভবিষ্যতে আরো বড় হবে অ্যাপ্লিকেশনের বাজার। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে মোবাইলের মাধ্যমে পেমেন্টের অঙ্কটা হবে এক ট্রিলিয়ন ডলার। ডিজিটাল সেবা কেনা, মোবাইল ব্যাংকিং বা মানি ট্রান্সফার_এগুলো হচ্ছে উদাহরণ।’ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উন্নত জীবনমানের স্বপ্ন দেখিয়ে আশ্রাফ আবির বলেন, ‘সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের বাচ্চার স্কুলের ফি থেকে শুরু করে বাস-ট্রেনের টিকিট মোবাইলে কিনে ফেলতে পারবেন। সব ধরনের পেমেন্ট যদি মোবাইলে হতো তাহলে আমাদের জীবনযাত্রার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াত? এ সেবাগুলো আমাদের দেশে হাঁটি হাঁটি পা পা করে শুরু হয়েছে, একে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।’
ইতিমধ্যে মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দেশের পুরো লেনদেন ব্যবস্থা যদি মোবাইলকেন্দ্রিক করা যায় তাহলে এ খাতেই যে ব্যবসা হবে তা কল্পনাতীত। স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমগুলোর গত বছরের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে আশ্রাফ আবির বলেন, ‘২০১১ সালে মার্কেট শেয়ারের প্রায় ৪৮.৮ শতাংশ দখল করে ছিল অ্যানড্রয়েড, তারপরই ১৯.১ শতাংশ আইওএসের। এরপরই ছিল সিম্বিয়ান ১৬.৪ শতাংশ। এ অপারেটিং সিস্টেমগুলোর জনপ্রিয়তা নির্ভর করে কোনটি কত বেশি আধুনিক, সহজবোধ্য এবং পরিপূর্ণ সেবা দিতে সক্ষম তার ওপর। যার অনেকটাই নির্ভর করে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ওপর। প্রায় সব অপারেটিং সিস্টেমকে কেন্দ্র করে অ্যাপ্লিকেশনের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। ২০১১ সালে বিশ্বের মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং মোবাইল ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক হাজার ২০০ মিলিয়ন। এই সংখ্যাগুলোই কিন্তু বলে দেয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের বাজারের সম্ভাবনা কতখানি।’
শুধু নকিয়া স্টোর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রতিদিন ১১ মিলিয়ন বার অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড হয় ১৯০টি দেশ থেকে। ৪৬টি দেশে তাদের এ ব্যবসাকে জনপ্রিয় করার জন্য অপারেটর বিলিং এবং ১৯২টি দেশে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বিলিং ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ৩২টি ভাষায় স্থানীয় অ্যাপ্লিকেশন মানুষ খুঁজে নিতে পারবে। নকিয়া এরই মধ্যে বাংলাদেশের অ্যাপ্লিকেশন মার্কেট নিয়ে কাজ করছে। বাংলা ভাষার এবং বাংলাদেশ উপযোগী অ্যাপ্লিকেশনগুলো প্রচার করছে। অন্যদিকে গুগল অ্যানড্রয়েড মার্কেটে অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড ১০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে গত ডিসেম্বরেই।
নকিয়া স্টোর, অ্যানড্রয়েড মার্কেট বা অ্যাপল স্টোরের কোনো অ্যাপ্লিকেশন থেকেই আমাদের দেশ থেকে সরাসরি কোনো জিনিস আপনি কিনতে পারবেন না। তার মানে কোনো ডেভেলপার তার আয়ের একটা বড় সুযোগ হারাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হচ্ছে না নিজেদের দেশের মানুষকে টার্গেট করে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে। আমাদের দিক থেকেই গুগলকে অ্যানড্রয়েড, নকিয়া স্টোরকে তাগাদা দিতে হবে পেমেন্ট যুক্ত করার জন্য। তার আগে সরকারকে মোবাইলে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নিয়ে ভাবতে হবে।
উদ্যমী এ তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী বলেন, ‘এটা নাই সেটা নাই, কিভাবে ব্যবসা হবে, এই চিন্তা করে যদি আমরা সময় নষ্ট করি তাহলে সেটাও হবে বোকামি। আমাদের উচিত নকিয়া স্টোর বা গুগল বা অ্যাপ্লিকেশন মার্কেটের তোয়াক্কা না করে আমরা নিজেদের জন্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অ্যাপ্লিকেশনের নিজস্ব বাজার গড়ে তোলা। অন্য ব্যবসার মতো অ্যাপ্লিকেশন মার্কেটেও এই ফাঁকা ফিল্ডটা দখল করতে বিদেশিরা চলে আসবে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে বিদেশি বাজারের দিকেই ঝুঁকবে।’
যারা মোবাইল নিয়ে কাজ করতে চায় তাদেরই সমস্যাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আমাদের মোবাইল পেমেন্ট গেটওয়ে নেই_এটাই নতুন বিনিয়োগের জায়গা হতে পারে উল্লেখ করে এমসিসির কর্ণধার বলেন, ‘অ্যাপ্লিকেশন গ্রাফিকস, মোবাইল অ্যাড, কনটেন্ট সাপোর্ট, মোবাইল কমার্স, মোবাইল টিকিটিং_সব জায়গায়ই যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারে।’
ভবিষ্যতে মোবাইল ফোনে সরকারি পরিসেবার প্রসার ঘটাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। আমরা সবাই মিলে সরকারের সঙ্গে কাজ করলে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার যে ক্ষেত্র তৈরি হবে তাতে সবার লাভ হবে। ভবিষ্যতে মোবাইল-নির্ভর মিডিয়া বায়িংয়ের ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে বলে মনে করেন আশ্রাফ আবির। তাঁর মতে, বিভিন্ন অ্যাড ফার্ম, এজেন্সি তখন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি মোবাইল মার্কেটিংয়ের দিকে ঝুঁকবে।
আমরা যারা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বানাই তারা ১৬ বিলিয়ন ডলারের বাজারে আমাদের দেশের মেধাবীদের যুক্ত করতে পারি। আমাদের দেশের মেধাবী প্রজন্মও যে ভালো অ্যাপ্লিকেশন বানাতে পারে তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত। আমরা আমাদের স্থানীয় চাহিদাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যেতে পারি। তাই বসে থাকলে বিজনেস করা যাবে না। ভবিষ্যতে এই বাজারে আরো প্রতিযোগী চলে আসবে।
এ জন্য আমাদের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আরো মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আশ্রাফ আবির। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলোই হতে পারে একেকটি কমার্শিয়াল ল্যাব। যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ এবং তা বিক্রি করবে। শুরু থেকেই তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। কাজেই আমরা যদি সেই প্রস্তুতি নিতে পারি তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবগুলোই প্রাথমিকভাবে হতে পারে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের বড় ফ্যাক্টরি।’
আমাদের দেশেও থ্রিজি চলে আসছে। আর তখন মোবাইলই হয়ে উঠবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রেভিনিউ খাত। মোবাইলকেন্দ্রিক ইন্টারনেট আরো জনপ্রিয় হবে। তখন ভিডিও এবং মোবাইল টিভির বাজার অনেক বড় হবে। আর মোবাইলই যখন এত কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে তখন এখানে অনেক বড় গেইম শুরু হবে বলে মনে করেন আবির।
এই বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের ব্যান্ডইউথের দাম কমাতে হবে। কারণ এত চড়া মূল্যের ডাউনলোড সহজে জনপ্রিয় হবে না। আমাদের মোবাইল গেম, মিউজিক তথা এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির বাজার ধরতে হবে। থ্রিজি প্রযুক্তি চলে আসছে খুব তাড়াতাড়ি, এ ক্ষেত্রে অডিও-ভিডিও কনটেন্টের বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে।

Kaler Kantho.com