‘বঙ্গবন্ধু’তে ঢুকলেই শোনা যাবে সেই বজ্রকণ্ঠ

‘বঙ্গবন্ধু’তে ঢুকলেই শোনা যাবে সেই বজ্রকণ্ঠ

235918kalerkantho-15-08-16-6

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—রেসকোর্স ময়দানে তর্জনী উঁচিয়ে বজ্রকণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সেই ভাষণটি এখন স্মার্টফোনেই শুনছে তরুণ প্রজন্ম। বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস’ শিরোনামে যে প্রকাশনা বের হয়েছে, তাতে  স্থান করে নেওয়া বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটি আজও সবার কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। আর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, দুর্লভ ছবি, আত্মজীবনী, সাক্ষাত্কার, হাতে লেখা চিঠি, ভিডিওসহ তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের নানা স্মৃতিকে স্মার্টফোনের একটি অ্যাপের মধ্যে নিয়ে এসেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। অ্যাপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’। বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া সিংহপুরুষ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিজীবন এবং দিকনির্দেশনামূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। স্মার্টফোনের এই দুনিয়ায় দেশ-বিদেশের কোটি কোটি তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতির জনকের জীবন ও দর্শন পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য ভীষণভাবে অনুপ্রেরণার।

সারা বিশ্বে এখন যে স্মার্টফোন বিপ্লব চলেছে তাকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে আমরা এই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে দিয়েছি। বাংলাদেশে এবং বিশ্বে যে ৪০ কোটি বাঙালি রয়েছে তাদের কাছে সহজেই আমাদের মহান নেতার আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি আমাদের প্রথম প্রয়াস।’ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের এ অ্যাপটি তৈরি করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে দেশের অন্যতম মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিসি লিমিটেড। অ্যাপটির নতুন সংস্করণে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর রঙিন ভিডিও চিত্র (ভাষণ) সংযুক্ত করা হয়েছে। অ্যাপটি আপাতত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে পাওয়া যাচ্ছে। আইফোনের গ্রাহকদের জন্যও অ্যাপটি উন্মুক্ত করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ অ্যাপ্লিকেশনটি  এই লিংকে গিয়ে ডাউনলোড করা যাবে। এ ছাড়া গুগল প্লে-স্টোরে গিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ সার্চ দিয়েও অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।

অ্যাপ্লিকেশনটিতে ঢুকলে মূল মেন্যুতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, ভাষণ, সাক্ষাত্কার, চিঠি, বঙ্গবন্ধু ফটো গ্যালারি এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘর—এই ছয়টি বিষয় পাওয়া যাবে। আত্মজীবনীতে প্রবেশ করলে সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী নামে দুটি সাব মেনু পাওয়া যাবে। সংক্ষিপ্ত জীবনীতে ১৯২০ থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবহুল সময়ে বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ড জানা যাবে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেওয়া এক সাধারণ ছেলে কিভাবে একটি রাষ্ট্রের, একটি জাতির জনক হয়ে ওঠেন তার ধারাবাহিক বর্ণনা আছে এখানে। জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘অ্যাপটিতে বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে শুরু করে তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনী, দেশকে নিয়ে স্বপ্ন, স্বাধীনতা সংগ্রাম—সব কিছুই আছে। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এখন এটির ব্যবস্থাপনা করবে।’ অসমাপ্ত জীবনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির পিডিএফ ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে। ভাষণ মেন্যুতে প্রবেশ করলে বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ সব ভাষণ পাওয়া যাবে। এখান থেকে মোবাইলেই ভাষণের ভিডিও দেখা যাবে। ৭ মার্চের বিখ্যাত ভাষণ, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ভারতে দেওয়া ভাষণ, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দেওয়া ভাষণ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় দেওয়া ভাষণ, জুলি ও কুরি পদকপ্রাপ্তির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ, ১৯৭৫ সালের ২৬ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া ভাষণ, সত্তরের নির্বাচনের আগে রেডিও পাকিস্তানে দেওয়া ভাষণ পাওয়া যাবে এই অ্যাপ্লিকেশনে। ফটো গ্যালারিতে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় ও ব্যক্তিজীবনের ১১৩টি দুর্লভ ছবি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সাক্ষাত্কার মেন্যুতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ছয়টি দুর্লভ সাক্ষাত্কার পাওয়া যাবে। এসব সাক্ষাত্কারে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, দেশপ্রেম ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে। চিঠি মেন্যুতে প্রবেশ করলে বঙ্গবন্ধুর হাতে লেখা অনেক চিঠির স্ক্যান কপি পাওয়া যাবে। কারাবন্দি অবস্থায় বাবা, রাজনৈতিক সহকর্মী, স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্দেশ করে চিঠিগুলো লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু।