‘অ্যাপ তৈরির মূল লক্ষ্য হতে হবে সমস্যা সমাধান’

‘অ্যাপ তৈরির মূল লক্ষ্য হতে হবে সমস্যা সমাধান’

Ittefaq1 Main

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দেশে অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কথা বললেই শুরুতেই চলে আসে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন্সের নাম। তবে এমসিসি নামেই প্রতিষ্ঠানটি অধিক পরিচিত। ২০০৮ সালে যখন প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে, তখন এর কর্মী সংখ্যা ছিল মাত্র তিনজন। তবে বর্তমানে এখানে কাজ করছেন প্রায় ৬০ জন তরুণ কর্মী যাদের হাত ধরে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে অসংখ্য সফল এবং জনপ্রিয় অ্যাপ। এমসিসি’র শুরু থেকে বর্তমান সময়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানালেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আশরাফ আবির। তিনি জানান, এমসিসি’র শুরুর দিকে মূল লক্ষ্য ছিল মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন প্রোডাক্ট তৈরি। আবির বলেন, ‘সে সময় ইন্টারনেট এখনকার মতো সহজলভ্য ছিল না। ফলে তখন আমাদের কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। সে সময় আমরা তৈরি করেছিলাম লেমন ২৪ নামের একটি অনলাইন রেডিও যা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।’ ২০০৯ সালের দিকে নকিয়া বাংলাদেশের সাথে কাজ শুরু করে এমসিসি। আবির জানান, সে সময় নকিয়া ফোনের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ তৈরির মাধ্যমে ফোনগুলো স্থানীয় ব্যবহারকারীদের জন্য আরও ব্যবহার উপযোগী করে তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে তার প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে নকিয়া ফিনল্যান্ড এবং নকিয়া থাইল্যান্ডের সাথেও কাজ করে এমসিসি।

 

তবে ধীরে ধীরে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস প্রভৃতি প্ল্যাটফর্মের জন্যও অ্যাপ তৈরি করতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের কিছু জনপ্রিয় ওয়েবপোর্টালের জন্যও তখন অ্যাপ তৈরি করে এমসিসি। এ বিষয়ে আবির বলেন, ‘দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এর মধ্যে আছে গ্রামীণফোন, টেলিনর, মোজিলা, বিবিসি, ইউএসএইড, ইউনিসেফ প্রভৃতি। এর বাইরে আমরা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনেক অ্যাপ তৈরি করেছি।’

 

সম্প্রতি এমসিসি তৈরি করেছে লেটস ইট নামের রেস্টুরেন্টভিত্তিক একটি অ্যাপ। অ্যাপটির বিষয়ে তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আড্ডা এবং বিনোদনের অন্যতম স্থান হলো বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। সময় পেলেই অনেকে আড্ডা দিতে চলে যান কোনো রেস্টুরেন্টে। এর পাশাপাশি খেতে পছন্দ করেন, এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক। তবে এ ক্ষেত্রে কোথায় খাবেন এবং কী খাবেন, তা নিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন। তাদের কথা মাথায় রেখেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।’ তবে এটি শুধু একটি অ্যাপ নয়, সম্পূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম বলেও জানান আবির। তিনি বলেন, ‘অ্যাপটিতে একটি রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন ধরনের মেন্যুর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন অফারের খবরও মিলবে।’ বর্তমানে শুধু ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এই অ্যাপটি। তবে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে লেটস ইট কার্যক্রম শুরু করে মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সব মিলিয়ে শীঘ্রই দেশের বাইরে মোট ৬টি শহরে অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে। দেশের বাইরে কেন কার্যক্রম চালু করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আবির বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এসব শহরে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘুরতে যায়। আর এসব জায়গায় গিয়ে খাবারের বিষয়ে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েন। মূলত তাদের কাছে সেসব জায়গার বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এবং খাবারের তথ্য তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।’ এখন পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অ্যাপটি নিয়ে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। এর বাইরে এমসিসি পর্যটকদের জন্য ঘুরবো ডট কম নামের একটি ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট চালু করেছে। প্ল্যাটফর্মটি সম্পর্কে আবির বলেন, ‘মূলত তরুণদের কথা মাথায় রেখে চালু করা এ প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু হোটেল, মোটেল। এসব জায়গায় পর্যটকরা পাবেন আকর্ষণীয় সব অফার।’ তবে এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। শীঘ্রই এতে যুক্ত হবে আরও কিছু সুবিধা। শিশুদের জন্যও বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করেছে এমসিসি। এর মধ্যে অন্যতম হলো রুপকথা যেখানে রয়েছে শিশুদের কাছে জনপ্রিয় বিভিন্ন রুপকথার গল্প। এ ছাড়া জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র মীনাকে নিয়ে একটি বিশেষ গেম তৈরির কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

দেশে এবং দেশের বাইরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন স্বীকৃতি পেয়েছে এমসিসি। এর মধ্যে আছে এমবিলিয়ন্থ অ্যাওয়ার্ড, মন্থন অ্যাওয়ার্ড প্রভৃতি। এ ছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইনোভেশন এক্সট্রিমে সেরা পাঁচটি স্টার্টআপের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে লেটস ইট।

 

তরুণদের জন্যও এমসিসি বিভিন্ন সুযোগ করে দিচ্ছে বলে জানালেন আবির। তিনি বলেন, ‘এখানে আছে এমল্যাব নামের একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। এর পাশাপাশি আছে আমাদের নিজস্ব ইনকিউবেটর যেখান থেকে এখন পর্যন্ত চারটি স্টার্টআপকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।’ এর পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও। তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের জন্য বিনামূল্যে এই ল্যাবটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তরুণ অ্যাপ ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অ্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে ফোকাস করতে হবে সমস্যা সমাধানের দিকে। এর পাশাপাশি থাকতে হবে সৃজনশীলতা এবং দক্ষ কর্মী।’